মিল্কি মাশরুম (Calocybe indica) একটি সুস্বাদু, মোটা, সাদা এবং উচ্চমূল্যের ভোজ্য মাশরুম। এটি গরম আবহাওয়ায় খুব ভালো জন্মায়, তাই বাংলাদেশের জলবায়ুতে এর চাষের সম্ভাবনা অনেক।
পরিচিতি
-
বৈজ্ঞানিক নাম: Calocybe indica
-
বাংলা নাম: মিল্কি মাশরুম
-
রং: দুধের মতো সাদা
-
আকৃতি: মোটা ডাঁটা ও গোলাকার বড় টুপি
-
স্বাদ: নরম, মাংসল এবং সুস্বাদু
পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা মাশরুমে আনুমানিক)
-
ক্যালোরি: ৩০–৩৫ kcal
-
প্রোটিন: ৩–৪ গ্রাম
-
ফাইবার: ২–৩ গ্রাম
-
ফ্যাট: খুব কম
-
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
-
পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ক্যালসিয়াম
স্বাস্থ্য উপকারিতা
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
-
উচ্চ প্রোটিন ও কম ক্যালোরির কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে উপকারী।
-
ফাইবার বেশি থাকায় হজমে সাহায্য করে।
-
শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজের ভালো উৎস।
চাষের উপযোগী পরিবেশ
-
তাপমাত্রা: ২৮–৩৫°সে
-
আর্দ্রতা: ৮০–৯০%
-
আলো: ফলন পর্যায়ে হালকা আলো দরকার।
-
বাতাস চলাচল: ভালো হতে হবে।
সাবস্ট্রেট
-
ধানের খড় (সবচেয়ে প্রচলিত)
-
গমের খড়
-
অন্যান্য পরিষ্কার কৃষিজ অবশিষ্টাংশ
একটি ব্যাগ থেকে ফলন
-
সাধারণত ৭০০ গ্রাম–১.২ কেজি
-
ভালো ব্যবস্থাপনায় ১.৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে।
চাষের সময়
-
স্পন দেওয়ার পর মাইসেলিয়াম ছড়াতে প্রায় ১৫–২০ দিন লাগে।
-
এরপর কেসিং (Casing) করতে হয়।
-
কেসিংয়ের ৭–১৫ দিন পর মাশরুম বের হতে শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ: অয়েস্টার মাশরুমের মতো নয়, মিল্কি মাশরুমে সাধারণত কেসিং মাটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কেসিং ছাড়া ভালো ফলন পাওয়া যায় না।
সংগ্রহ
-
টুপিটি পুরোপুরি খুলে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করা ভালো।
-
ডাঁটার গোড়া থেকে পরিষ্কারভাবে কেটে তুলতে হয়।
সংরক্ষণ
-
২–৪°সে তাপমাত্রায় প্রায় ৫–৭ দিন ভালো থাকে।
-
শুকিয়ে আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়।