বাটন মাশরুম (Agaricus bisporus) বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ও খাওয়া ভোজ্য মাশরুম। সুপারশপ, হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে এর চাহিদা খুব বেশি। তবে অয়েস্টার বা মিল্কি মাশরুমের তুলনায় এর চাষ কিছুটা কঠিন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ প্রয়োজন।
পরিচিতি
-
বৈজ্ঞানিক নাম: Agaricus bisporus
-
বাংলা নাম: বাটন মাশরুম
-
ইংরেজি নাম: White Button Mushroom
-
রং: সাদা বা হালকা ক্রিম
-
আকৃতি: গোলাকার টুপি ও ছোট মোটা ডাঁটা
-
স্বাদ: মৃদু, কোমল ও সুস্বাদু
পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা মাশরুমে আনুমানিক)
-
ক্যালোরি: ২২–৩০ kcal
-
প্রোটিন: ৩–৪ গ্রাম
-
কার্বোহাইড্রেট: ৩–৪ গ্রাম
-
ফাইবার: ১–২ গ্রাম
-
ফ্যাট: খুব কম
-
ভিটামিন: B2, B3, B5, D (পরিবেশভেদে)
-
খনিজ: পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও কপার
স্বাস্থ্য উপকারিতা
-
কম ক্যালোরি ও কম ফ্যাট
-
ভালো মানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস
-
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক
-
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
-
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
চাষের উপযোগী পরিবেশ
-
কম্পোস্ট তৈরির তাপমাত্রা: নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্তুত করতে হয়।
-
মাইসেলিয়াম বৃদ্ধির তাপমাত্রা: ২২–২৫°সে
-
ফলন পর্যায়ের তাপমাত্রা: ১৪–১৮°সে
-
আর্দ্রতা: ৮৫–৯৫%
-
আলো: প্রায় প্রয়োজন হয় না।
-
বাতাস চলাচল: খুব ভালো হতে হবে।
সাবস্ট্রেট
বাটন মাশরুম সাধারণত ধানের খড়ে সরাসরি চাষ করা হয় না। এটি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কম্পোস্ট-এ চাষ করা হয়, যেখানে থাকতে পারে:
-
গমের খড়
-
মুরগির সার
-
জিপসাম
-
অন্যান্য নির্দিষ্ট উপাদান
কেসিং (Casing)
বাটন মাশরুমে কেসিং মাটি বাধ্যতামূলক। স্পন সম্পূর্ণ ছড়িয়ে গেলে কম্পোস্টের উপর কেসিং মাটি দিতে হয়, এরপর সেখান থেকেই মাশরুম বের হয়।
ফলন
-
প্রতি কেজি কম্পোস্ট থেকে প্রায় ২০০–৩০০ গ্রাম বা তারও বেশি ফলন পাওয়া যেতে পারে (ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে)।
-
বাণিজ্যিকভাবে ফলন সাধারণত একাধিক ফ্লাশে সংগ্রহ করা হয়।
সংগ্রহ
-
টুপির নিচের পর্দা (veil) ছিঁড়ে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করলে বাজারমূল্য বেশি পাওয়া যায়।
-
হাতে আলতো করে ঘুরিয়ে তুলে গোড়া পরিষ্কার করতে হয়।
সংরক্ষণ
-
২–৪°সে তাপমাত্রায় সাধারণত ৫–৭ দিন ভালো থাকে।
-
দ্রুত ঠান্ডা করলে গুণগত মান ভালো থাকে।